পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে পরিচিত রাজশাহীতে বিশেষ সড়কবাতি ব্যবহারে দেখা মিলে আলোর রোসনাই। সন্ধ্যার পর বিভিন্ন সড়কে জ্বলে ওঠা সড়কবাতিতে নগরীর সৌন্দর্য যেন দ্বিগুণ বৃদ্ধি পায়। পাখির চোখে তা দেখে মুগ্ধ হবেন যে কেউ।

তবে সৌন্দর্য বর্ধনের নামে এই আলোর রোসনাই দেখাতে প্রতিমাসে সিটি করপোরেশনের নামে ৫০ লাখ টাকার বিদ্যুৎ বিল আসে। এই বিল সঠিকভাবে পরিশোধ না করায় ইতোমধ্যে ৪৩ কোটি টাকার বিল বকেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়রা জানান, রাজশাহী নগরীতে সন্ধ্যা নামতেই প্রধান সড়কগুলো আলোকিত হয় দৃষ্টিনন্দন রাজমুকুট, প্রজাপতি ও ফ্লাড লাইটের আদলে তৈরি সড়কবাতিতে। ২০১৯ সালে থাইল্যান্ড ও চীন থেকে আনা নানা ডিজাইনের লাইটগুলো জ্বলে উঠতেই নগরীর সৌন্দর্য দ্বিগুণ বৃদ্ধি পায়।
তবে সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য আনা এসব লাইট এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের জন্য। প্রতিটি খুঁটিতে প্রয়োজনের চেয়েও অতিরিক্ত লাইট ব্যবহারের কারণে প্রতিমাসে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ বিল গুনতে হচ্ছে।
নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি-নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী জাকিউল ইসলাম জানান, নিয়মিত বিল পরিশোধ না করায় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের বিদ্যুৎ বিল বাবদ বকেয়া পড়েছে ৪৩ কোটি টাকা।
এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে সৌন্দর্য বর্ধনের নামে এত লাইট জ্বালিয়ে বিদ্যুৎ অপচয়ের আদৌ কী প্রয়োজন আছে?
নগরবাসীর অভিযোগ, তালাইমারি থেকে কোর্ট চত্বর পর্যন্ত প্রতিটি খুঁটিতে রাজমুকুটের আদলে ১৩টি করে ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় লাইট স্থাপন করা হয়েছে। এতে একদিকে যেমন সড়কে পর্যাপ্ত আলো থাকছে না, অন্যদিকে নিম্নমানের লাইট ব্যবহারের ফলে মাঝেমধ্যে তা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বাড়ছে ভোগান্তি।
এমন পরিস্থিতিতে বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের পাশাপাশি সৌন্দর্য বর্ধনের বিষয়টি মাথায় রেখে সড়কে ব্যবহার উপযোগী লাইট স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ড. দেওয়ান মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর।
তিনি বলেন,, মাসখানেকের মধ্যে নেসকোর বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের ৫ কোটি টাকা পরিশোধ করা হবে।