জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়া ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিল হয়েছে। গতকাল সোমবার রায় ঘোষণার পর বিকেল ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিল হয়। সেখানে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে নানা ধরনের স্লোগান ধরেন অনেকে।
টিএসসিতে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের বলেন, যে রায় হয়েছে, তা দুই হাজার শহীদ ভাইয়ের রক্তের বুদবুদ থেকে এসেছে। আজকে রায় পেয়েছি, কিন্তু শুধু রায়েই সন্তুষ্ট নই। যতদিন পর্যন্ত না খুনি হাসিনাকে বাংলাদেশে এনে ফাঁসি দেওয়া হবে, ততদিন পর্যন্ত সবাইকে রাজপথে থাকতে হবে।
মুহসীন হলের ভিপি সাদিক শিকদার বলেন, এমন সময়ে উপনীত হয়েছি, যার জন্য বহুল আকাঙ্ক্ষা নিয়ে অপেক্ষা করেছিলাম। যারা জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত হয়েছেন, তাদের পরিবারের আজকে খুশির দিন। আজকের এ রায় বিচার বিভাগের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
এরপর টিএসসির মেট্রোরেল স্টেশন থেকে আনন্দ মিছিল বের করেন তারা। পরে মিছিলটি ভিসি চত্বর থেকে ব্যবসায় অনুষদ হয়ে ডাকসু ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।এদিকে রায়ের পর হাইকোর্টের সামনে উপস্থিত জনতাকে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়তে দেখা গেছে। সে সময় স্লোগান দিতে দিতে অনেকে একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন। রায় ঘোষণার পরপরই ‘মঞ্চ ২৪’ ব্যানারে একদল ছাত্র-জনতাকে হাইকোর্টের সামনে সেজদা দিয়ে ও মোনাজাত করে সন্তুষ্টি প্রকাশ করতে দেখা যায়।
গণসেজদার পর মোনাজাতে ‘মঞ্চ ২৪’ এর আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকী বলেন, যারা গুম ছিলেন, যাদের জীবন থেকে যৌবনের সুন্দর সময়টুকু কেটে গেছে। শেখ হাসিনা আমাদের এ জীবন থেকে যে সময়টুকু নিয়েছে, তাকে জনতার সামনে ফাঁসিতে ঝোলানোর প্রার্থনা করেন তিনি।
এ মঞ্চের ব্যানারে রায়-পরবর্তী তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় অবসপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিনুর রহমান বলেন, আমাদের উচ্ছ্বাস বোঝাতে পারব না। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া; ন্যায়বিচার পেয়েছি। এ বিচার কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আমার প্রশান্তি আসবে না, তারপরও আমি হাসছি। এ বিপ্লবের একমাত্র মাস্টারমাইন্ড মহান আল্লাহ, তিনিই বিচার দিয়েছেন। আমরা সবাই শুকরিয়া আদায় করেছি সেজদা দিয়ে।
রায়ে সন্তুষ্ট হয়ে ঢাকার নিম্ন আদালতে আনন্দ মিছিল করেছেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ঢাকা বারের সদস্যরা। আনন্দ মিছিল শেষে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। মিছিলটি ঢাকা আইনজীবী সমিতির সামনে থেকে শুরু হয়। এরপর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত হয়ে মহানগর দায়রা জজ আদালত চত্বর ঘুরে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সামনে গিয়ে শেষ হয়।
মিষ্টি বিতরণ ও প্রতীকী ফাঁসি প্রদর্শন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু)। গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় আনন্দ মিছিল বের করেন জাকসুর নেতাকর্মীরা। মিছিলে অংশ নেন জাকসুর বিভিন্ন নেতা, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। তবে প্রতীকী ফাঁসি প্রদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন না জাকসু ভিপি আবদুর রশিদ জিতু।
এদিকে আবু সাঈদের ক্যাম্পাস বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছেন। এদিন বিকেলে আবু সাঈদ গেট থেকে আনন্দ মিছিল বের হয়ে প্রধান ফটকে গিয়ে শেষ হয়। মিছিল শেষে শিক্ষার্থীরা মিষ্টি বিতরণ করেন।
ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা রায়কে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং মিষ্টি বিতরণ করেন। জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকেও রায়কে স্বাগত জানিয়ে মোটরসাইকেল বহর নিয়ে আনন্দ মিছিল বের করা হয়।
রাজশাহী নগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মিষ্টি বিতরণ করেছে। সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করেন এনসিপি নেতাকর্মীরা। কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বিএনপি আনন্দ মিছিল করেছে। মাগুরার শ্রীপুরে বিএনপির আয়োজনে আনন্দ মিছিল বের করা হয়।
নাটোর শহরের কানাইখালী পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ এবং আনন্দ মিছিল করা হয়। বাগেরহাট শহরের দশানী ট্রাফিক মোড়সহ শহরের বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। এনসিপির উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাড়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়।