গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, দেশের কর্মক্ষম ও বিপুল যুবসমাজই উন্নতির প্রধান নিয়ামক। উন্নত ও সফল রাষ্ট্রের কাতারে যেতে হলে তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে হবে। কারণ মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসন দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, সম্প্রতি সাতটি বিভাগীয় শহরে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে সাতটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্প একনেকে অনুমোদিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মাদকের সঙ্গে জাড়িয়ে পড়ছে। আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, নারী, শিশু ও কিশোরদের মাদক চোরাচালানে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে তাদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় একসঙ্গে কাজ করছে।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, মাদক থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষায় বর্তমান সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। প্রায় ১৮ কোটি জনসংখ্যার দেশে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে বর্তমানে ২ হাজার ৯৪৩ জন কর্মী নিয়োজিত আছেন, যার মধ্যে ১ হাজার ৬২২ জন এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রমে যুক্ত। ৬৪টি জেলা কার্যালয়, একটি বিশেষ জোন, আটটি বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয় এবং আটটি বিভাগীয় কার্যালয়ের সহযোগিতায় অধিদপ্তর দেশব্যাপী কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
তিনি উল্লেখ করেন, অপরাধ দমনে কাজ করা অন্যান্য সংস্থার জনবলের তুলনায় এ সংখ্যা সীমিত। অধিদপ্তরের যানবাহন স্বল্পতাসহ অভিযান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও উন্নত উপকরণের অভাব রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে এবং মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হবে। পুলিশ, বিজিবি, র্যাব, কোস্টগার্ডের পাশাপাশি নোডাল এজেন্সি হিসেবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যক্রম আরও বেগবান করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, বর্তমান সরকারের সদিচ্ছায় এরই মধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (কর্মকর্তা-কর্মচারী) অস্ত্র সংগ্রহ ও ব্যবহার নীতিমালা-২০২৪ প্রণীত হয়েছে। অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রথম ব্যাচের অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণও সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারকে একটি বহুমাত্রিক সমস্যা হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।