ঢাকা, ১ জুন ২০২৫ – দীর্ঘ ১১ বছর পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি ফিরে পেয়েছে দলীয় নিবন্ধন। নির্বাচন কমিশন আজ (রবিবার) দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতের নিবন্ধন পুনর্বহালের ঘোষণা দেয়। এর মাধ্যমে দলটি আবারও দেশের জাতীয় নির্বাচনসহ সকল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার আইনি স্বীকৃতি অর্জন করল।
নিবন্ধন বাতিল হওয়ার পর জামায়াতে ইসলামি কয়েক দফা আপিল করে এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আপিল বিভাগ নির্বাচন কমিশনকে জামায়াতের আবেদন পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দেয়। এই নির্দেশনার আলোকে নতুন কমিশন সব পক্ষের বক্তব্য শুনে নিবন্ধন ফিরিয়ে দেয়।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) আজ বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান,
“সংবিধান ও আইনি কাঠামোর আলোকে, আমরা জামায়াতে ইসলামির নিবন্ধন পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। তারা আইনি বাধা দূর করেছে এবং রাজনৈতিকভাবে কার্যকর একটি দল হিসেবে ফিরেছে।”
জামায়াতে ইসলামির নবনির্বাচিত আমির ড. শফিকুল ইসলাম এক বিবৃতিতে বলেন,
“এটি গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক বিজয়। আমরা শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক রাজনীতির মাধ্যমে দেশের কল্যাণে কাজ করব।”
নিবন্ধন ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না দিলেও, নাগরিক সমাজ ও যুদ্ধাপরাধবিষয়ক সংগঠনগুলো বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর একাংশ বলছে, “যেসব কারণে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হয়েছিল, তার পূর্ণাঙ্গ বিচার এখনো হয়নি।”
২০১৩ সালে জামায়াতে ইসলামির নিবন্ধন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট অবৈধ ঘোষণা করে। আদালত মতবাদের সঙ্গে বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক কাঠামো সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে এই সিদ্ধান্ত দেয়। এরপর দলটি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দলটি নতুন নেতৃত্ব, সাংগঠনিক কাঠামো এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পরিবর্তন আনার মাধ্যমে নিবন্ধন ফেরত পাওয়ার লক্ষ্যে কাজ করে আসছিল।