শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে নতুন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

Reporter Name / ১৩৩ Time View
Update Time : শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ১২:২০ পূর্বাহ্ন

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ঐতিহাসিক আদেশ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্ট গণহত্যা সংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধে নতুন করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রোববার, ১ জুন ২০২৫, ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

এ মামলায় শেখ হাসিনার পাশাপাশি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধেও একই ধরনের পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। অপর অভিযুক্ত, চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন (সাবেক আইজিপি)–কে এ মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে।


কীভাবে শুরু হয় মামলার তদন্ত?

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। এরপর ১৪ আগস্ট শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়। ১২ মে ২০২৫ তারিখে তদন্ত শেষ করে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয়।

এই মামলায় অভিযোগ ছিল, সরকার বিরোধী আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ সরকার নির্বিচারে গণহত্যা চালায়, যাতে প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিহত হয়। এর মধ্যে নারী ও শিশুদের মৃত্যুও অন্তর্ভুক্ত ছিল।


প্রথম গণহত্যা মামলা ও পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনাল

শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। এই ট্রাইব্যুনালে গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণ, নিপীড়নসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ বিচারের উদ্যোগ নেয়া হয়।

এই ট্রাইব্যুনালের অধীনে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এটি প্রথম মামলা। যা “মিস কেস” হিসেবে রেকর্ড করা হয়।


গ্রেপ্তারি পরোয়ানা: মামলার নতুন মোড়

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রথম গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয় ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪। এরপর নতুন করে ১ জুন ২০২৫ আরও একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হলো, যা মামলার গতি আরও জোরালো করল।

এই মামলার বিচারকার্য বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে, যা ইতিহাসে প্রথম।


ভবিষ্যৎ কী?

এই মামলার ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত। তবে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে প্রতিক্রিয়া তীব্র। অনেকে এটিকে ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে এটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ বলেও মনে করছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *