পটুয়াখালী আদালতে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে সংঘর্ষ: পাঁচজন আহত, উত্তপ্ত পরিস্থিতি

Reporter Name / ১৮৪ Time View
Update Time : শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ০২:৩৮ পূর্বাহ্ন

পটুয়াখালী, ২৫ জুন:
চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে বুধবার (২৫ জুন) দুপুরে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে পাঁচজন আহত হন এবং আদালত প্রাঙ্গণ দীর্ঘ সময় উত্তপ্ত হয়ে থাকে।

আহতদের পরিচয়:

আহতরা হলেন—

  • অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল নোমান (জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক দপ্তর সম্পাদক)
  • অ্যাডভোকেট হাসিবুর রহমান
  • আতিকুল ইসলাম দিপু (কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি)
  • জুয়েল (কলাপাড়া পৌর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক)
  • কাজল তালুকদার (কলাপাড়া পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক)

ঘটনার পটভূমি:

ঘটনাটি ঘটে একটি জিআর মামলার জামিন শুনানির সময়। আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল নোমান। তিনি অভিযোগ করেন, বাদী শাহিন মৃধা—যিনি কলাপাড়ার পোর্টের জেটিতে অবস্থানরত একজন যুবলীগ নেতা— নিজের ঘরে আগুন দিয়ে নাটক সাজান এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেন।

নোমানের দাবি, “আমরা জামিন চাওয়ার পক্ষে শুনানি করি, অথচ বারের কয়েকজন সদস্য এবং এপিপিরা বাদী পক্ষের হয়ে কোর্টে সাফাই গাইতে থাকেন। আদালত প্রভাবিত হয়ে দুইজনকে হাজতে পাঠান।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বার সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন এবং খুনের হুমকি দেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা:

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুনানিকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে তর্ক শুরু হয়, যা দ্রুতই হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে মারধর ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম মহসিন বলেন, “আমি সবাইকে শান্ত করার চেষ্টা করি, কিন্তু তাতেও তারা আইনজীবীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন।”

বিপরীত প্রতিক্রিয়া:

জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শরীফ মো. সালাহউদ্দিন বলেন, “ঘটনার সময় আদালতে আমি উপস্থিত ছিলাম। আসামিপক্ষের আইনজীবী আদালতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন। পরে তিনি বহিরাগত লোকজন এনে আমাদের ওপর হামলা করতে চেয়েছিলেন।”

তিনি জানান, “আমরা বার লাইব্রেরিতে আশ্রয় নিই, কিন্তু তারা বার গেটে হানা দেয় এবং গালিগালাজ করে।”

পুলিশি অবস্থান:

পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইমতিয়াজ বলেন, “ঘটনার খবর শুনেছি, তবে এখনো পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *