গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি থেকে প্রেসিডেন্টের দোরগোড়ায়: লি’র উত্থানের গল্প

Reporter Name / ১৪৪ Time View
Update Time : শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ১২:২১ পূর্বাহ্ন

গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি থেকে ব্লু হাউজ পর্যন্ত: লি’র জীবন গল্প এখন ইতিহাসের অংশ হতে চলেছে

এক সময়ের গার্মেন্টসকর্মী, আজ দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পদের সবচেয়ে সম্ভাব্য মুখ—লি জে-মিয়ং। তার জীবনের বাঁকে বাঁকে যেমন রয়েছে সংগ্রাম আর বেদনার গল্প, তেমনি রয়েছে অদম্য প্রত্যয়ের এক নজির।

শিশুশ্রমিক থেকে আইনজীবী

পরিবারের অভাব-অনটনের কারণে স্কুলের পাঠ চুকাতে না চেয়েই লি ছুটে যান কারখানার চৌকাঠে। শিশু বয়সেই গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে শুরু হয় তার শ্রমজীবন। এক দুর্ঘটনায় কনুই মারাত্মকভাবে জখম হলে চিকিৎসা এবং পড়াশোনার সুযোগ পান স্কলারশিপে। সেই পথেই ধীরে ধীরে নিজেকে গড়েন আইনজীবী হিসেবে।

রাজনীতির মঞ্চে আত্মপ্রকাশ

আইনি লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা থেকেই লি হয়ে ওঠেন সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর। তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু হয় স্থানীয় প্রশাসন দিয়ে। সিউংনামের মেয়র হিসেবে পরিচিতি পান যখন দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে বড় কুকুর মাংসের বাজার তিনি বন্ধ করে দেন। এরপর গিয়ংগি প্রদেশের গভর্নর হিসেবে নেতৃত্ব দেন।

২০২২-এ হার, ২০২৪-এ প্রত্যাবর্তন

২০২২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ইউন সুক ইয়েওলের কাছে অল্প ভোটে হেরে যান লি। তবে হার মানেননি। ২০২4 সালে প্রেসিডেন্ট ইউন সামরিক আইন জারির অভিযোগে অভিশংসিত হলে রাজনৈতিক উত্তাল সময়ে নেতৃত্বে আসেন লি। এরই মধ্যে এক সমাবেশে ছুরি হামলার শিকার হন তিনি। গলায় মারাত্মক আঘাত পেয়েও ফিরে আসেন দৃঢ়তা নিয়ে।

প্রতিশ্রুতি ও বিতর্ক

লি’র নির্বাচনী এজেন্ডা শক্তিশালী—দক্ষিণ কোরিয়ার এআই শিল্পকে বিশ্বের শীর্ষ তিনে উন্নীত করা এবং সামরিক আইন জারিতে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা। তবে বিতর্কও পিছু ছাড়েনি। একটি রিয়েল এস্টেট প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ, নির্বাচনী তথ্য গোপনসহ একাধিক মামলায় এখনো লড়ছেন তিনি। তার দাবি, এসব সবই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা।

প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রশ্ন, মানুষের উত্তর

লি’র প্রতিদ্বন্দ্বী কিম মুন-সু বলেন, “এত দুর্নীতির অভিযোগের পরও কীভাবে প্রেসিডেন্ট পদে দাঁড়ানো সম্ভব?” জবাবে লি বলেন, “ঠান্ডা ঘরে বসে কাঁপতে থাকা মানুষদের কথা ভাবা যায়, কিন্তু তাদের কষ্ট বুঝতে হলে একসময় আপনাকেও সেখানে থাকতে হয়।”

এই উত্তরেই হয়তো লুকিয়ে আছে লি’র জনপ্রিয়তার রহস্য। এক সময়ের পথচলা যেখানে শ্রমিকের ঘাম আর কষ্টে ভেজা, সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা আজ তাকে মানুষের সবচেয়ে কাছের রাজনীতিবিদ করে তুলেছে।

আর তাই, অনেক দক্ষিণ কোরীয়র বিশ্বাস—এই গার্মেন্টসকর্মীই হতে যাচ্ছেন তাদের নতুন প্রেসিডেন্ট।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *