কাজী হাবিবুল আউয়ালের বিস্ফোরক মন্তব্য: শেখ মুজিবও ক্ষমতার লোভ সামলাতে পারেননি!

Reporter Name / ২২৬ Time View
Update Time : শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ০২:৩৯ পূর্বাহ্ন

ঢাকা, ২৬ জুন ২০২৪ – সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমানের আদালতে এক চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন। রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে দায়ের করা এক মামলার রিমান্ড শুনানিতে তিনি বলেন, “শেখ মুজিবের ক্ষমতার যে লোভ, তিনিও নিজেকে সামলাতে পারেননি।” তার এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

দুপুর দেড়টার দিকে শেরেবাংলা নগর থানার মামলায় হাবিবুল আউয়ালকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। শুনানি চলাকালে হাবিবুল আউয়াল আদালতকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “মাননীয় আদালত আপনি ন্যায়বিচার করবেন। আমি স্বীকার করছি, রাজনৈতিক দলের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। দলীয় সরকারের অধীনে সব নির্বাচনই বিতর্কিত। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় নির্বাচন তুলনামূলক সুষ্ঠু হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “কোন নির্বাচন বিতর্কিত মুক্ত বলুন। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৩ সালেও কিন্তু মানুষকে পথে আটকে নমিনেশন দিতে দেওয়া হয়নি। শেখ মুজিবের ক্ষমতার যে লোভ, তিনিও নিজেকে সামলাতে পারেননি। সেই সময়ও কিন্তু নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি।”

হাবিবুল আউয়াল দৃঢ়ভাবে বলেন, “এক হাজার বছরেও নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না, যদি না কিছু মৌলিক সংস্কার করা হয়।” শুনানি শেষে আদালত তার ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য, গত ২৩ জুন একই মামলায় সাবেক সিইসি নুরুল হুদার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছিল। বুধবার রাজধানীর মগবাজার থেকে হাবিবুল আউয়ালকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

গত ২২ জুন বিএনপি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব ‘পালন না করে’ উল্টো ‘ভয়ভীতি দেখিয়ে’ জনগণের ভোট ছাড়াই নির্বাচন সম্পন্ন করার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে গত ২৫ জুন এই মামলায় নতুন করে রাষ্ট্রদ্রোহ, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের ধারা যুক্ত করা হয়। মামলায় ২০১৪ সালের নির্বাচনের তৎকালীন সিইসি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ, ২০১৮ সালের নির্বাচনের তৎকালীন সিইসি এ কে এম নূরুল হুদা ও ২০২৪ সালের নির্বাচনের তৎকালীন সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়ালকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়াও সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হাসান মাহমুদ খন্দকার, একেএম শহীদুল হক, জাবেদ পাটোয়ারী, বেনজীর আহমেদ ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকেও এই মামলায় আসামি করা হয়েছে।

এই মন্তব্য এবং রিমান্ড মঞ্জুরের ঘটনা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *