স্বামীর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

Reporter Name / ৭২ Time View
Update Time : শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ১২:১৬ অপরাহ্ন

বিশেষ প্রতিনিধি : রাজধানীর আজিমপুরের এক তরুণী স্বামীর বিরুদ্ধে প্রতারণা, ভরণপোষণ না দেওয়া, গোপনে তোলা ব্যক্তিগত ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি এবং ইতোমধ্যে কিছু ছবি প্রকাশের অভিযোগ এনে ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।

শনিবার বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

ভুক্তভোগী জানান, ২০২২ সালে তিনি কেরানীগঞ্জের বাসিন্দা মোহাম্মদ রকি হোসেনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিবাহের পর তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সংসার শুরু করলেও কিছুদিন পর থেকেই স্বামীর আচরণে অস্থিরতা দেখা দেয়। তার অভিযোগ, রকি দীর্ঘ সময় ধরে আত্মগোপনে রয়েছেন, নিয়মিত ভরণপোষণ দেন না এবং নিজের ইচ্ছামতো যোগাযোগ করেন।

সোনিয়ার দাবি, স্বামী কখনও তাকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকার করেন, আবার কখনও অস্বীকার করেন। কাবিননামার কপি চাইলে তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এরই মধ্যে রকির মায়ের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে মোট তিন লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগটি হলো—দাম্পত্য জীবনের একান্ত মুহূর্তের কিছু ছবি গোপনে ধারণ করে তা প্রকাশের হুমকি দেওয়া। ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, তার অজ্ঞাতে ধারণ করা কিছু ব্যক্তিগত ছবি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে এবং আরও ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। টাকা না দিলে এসব ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

সোনিয়া আক্তার খুশি বলেন, “বিবাহিত স্ত্রী হিসেবে বিশ্বাস করে সংসার করেছি। এখন আমাকে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায় করা হচ্ছে। আমি এই প্রতারণার প্রতিবাদ জানাই এবং ন্যায়বিচার চাই।”

আইনজীবীদের মতে, এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন এবং দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। বিশেষ করে গোপনে ব্যক্তিগত ছবি ধারণ ও প্রচার, ব্ল্যাকমেইল এবং আর্থিক প্রতারণা—এসবের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *