স্কুলছাত্রী ধর্ষণ: শিক্ষক মিজান গ্রেপ্তার, ৩ ছাত্রী উদ্ধার

Reporter Name / ১৮৬ Time View
Update Time : শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ০২:৩৯ পূর্বাহ্ন

চার স্কুলছাত্রীকে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পাগলা উচ্চ বিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন সাবেক শিক্ষক মিজানুর রহমান ওরফে মিজানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৫ জুন) দুপুরে ঢাকার মোহাম্মদপুরের সাদেক খান রোডের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার হেফাজত থেকে তিন ভুক্তভোগী ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত মিজানুর রহমান বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার মৃত আবু তালেব শিকদারের ছেলে।

অভিযোগ ও গ্রেপ্তার

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক মিজানুর চলতি জুন মাসের ৬, ১১ এবং ২৩ তারিখে নবম ও দশম শ্রেণির চার ছাত্রীকে কৌশলে ঢাকায় নিয়ে যান। সেখানে একটি ভাড়া বাসায় আটকে রেখে তাদের একাধিকবার ধর্ষণ করেন তিনি। সর্বশেষ ২৩ জুন একজন ছাত্রীকে একই কৌশলে নিয়ে যাওয়ার পর, সে ২৪ জুন কৌশলে পালিয়ে এসে পরিবারকে সব জানায়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মোহাম্মদপুরে অভিযান চালিয়ে বাকি তিন ছাত্রীকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত মিজানকে গ্রেপ্তার করে।

শিক্ষকের কার্যপদ্ধতি

পুলিশ আরও জানায়, মিজান ঢাকায় বসবাস করলেও ফতুল্লার পাগলা উচ্চ বিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে আর্ট ও কম্পিউটার ক্লাস নিতেন। প্রতি শুক্রবার স্কুল বন্ধ থাকায় তিনি অসচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীদের প্রলোভনে ফেলে ঢাকায় নিয়ে যেতেন এবং সেখানে ধর্ষণ করতেন। নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) মোহাম্মদ হাসিনুজ্জামান কালবেলাকে জানান, মিজান একজন বিকৃত রুচির ব্যক্তি এবং অসচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীদের টার্গেট করতেন। ভুক্তভোগী চার শিক্ষার্থীর মধ্যে দুজন নবম ও দুজন দশম শ্রেণিতে পড়ে।

মামলা ও আইনি প্রক্রিয়া

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাসিনুজ্জামান আরও বলেন, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও অপহরণ আইনে মামলা হয়েছে। সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। উদ্ধার করা তিন শিক্ষার্থী আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।

এই ধরনের ঘটনা সমাজে শিক্ষকের ভূমিকা নিয়ে কী ধরনের প্রশ্ন তৈরি করে বলে আপনি মনে করেন?


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *