মার্কিন সমর্থিত হামলার পর এবার পাল্টা জবাবে ইসরায়েলের দিকে নিজস্ব তৈরি ‘খাইবার’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। স্থানীয় সময় ২২ জুন, রোববার, দেশটির অভিজাত বাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি জানায়, এই হামলায় প্রথমবারের মতো ব্যবহার হলো ইরানের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির এই ক্ষেপণাস্ত্র।
‘খাইবার’ নামেই বেশি পরিচিত এই ক্ষেপণাস্ত্রের প্রকৃত নাম খোররামশহর-৪। এটি ইরানের মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের চতুর্থ প্রজন্ম, যার উৎপত্তি খোররামশহর সিরিজ থেকে। ইরানি প্রযুক্তিতে তৈরি এই অস্ত্রটি অনেক দিক থেকেই একধাপ এগিয়ে:
‘খাইবার’ ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার কেবল একটি সামরিক পদক্ষেপ নয় — এটি একটি কৌশলগত বার্তাও। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ ইসরায়েল ও তার পশ্চিমা মিত্রদের জন্য এক ধরনের সতর্ক সংকেত। প্রযুক্তির দিক থেকে এটি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা প্রচলিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ঠেকানো অত্যন্ত কঠিন।
আইআরজিসি’র ভাষ্য অনুযায়ী, এই হামলা ছিল “প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা”। তবে এর তাৎপর্য শুধু প্রতিরোধে সীমাবদ্ধ নয় — এটি মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্যে একটি নতুন দিক উন্মোচন করেছে। তেহরান হয়তো এটি দিয়ে বোঝাতে চায়: ইরানের হাতে এখন এমন অস্ত্র আছে, যা দিয়ে দূরবর্তী প্রতিপক্ষকেও কার্যকরভাবে আঘাত হানতে সক্ষম।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার নতুন অধ্যায় তৈরি করতে পারে। একদিকে ইসরায়েল-ইরান টানাপড়েন, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাও এই সংকটে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
এখন প্রশ্ন হলো: এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শনের পরে পরবর্তী চাল কার? এবং কূটনৈতিক সমাধানের দরজা কি একেবারে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে?