জ্বালানি সংকটে চরম বিপাকে মাছ ধরার ট্রলার ও জেলেরা : বজলুর রহমান বাবলু

Reporter Name / ৪৮ Time View
Update Time : শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ০৩:৪৬ অপরাহ্ন

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতি (রেজি নং-বি-১৯৫১) এর কেন্দ্রীয় কার্যালয় ২৭/৫/খ, তোপখানা রোড (৩য় তলা), সেগুনবাগিচা, ঢাকায় ৬ এপ্রিল ২০২৬ইং সোমবার ১১ টায় এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ বজলুর রহমান বাবলু বলেন, চলতি জ্বালানি সংকট, বিশেষ করে ডিজেলের তীব্র অভাব এবং উচ্চমূল্যের কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর জেলেরা বর্তমানে চরম বিপাকে পড়েছেন। বরগুনা, পটুয়াখালী, কক্সবাজার ও চাঁদপুরসহ বিভিন্ন উপকূলীয় অঞ্চলে হাজার হাজার ট্রলার জ্বালানির অভাবে ঘাটে আটকে আছে, ফলে লাখো জেলে বেকার হয়ে পড়েছেন।

জ্বালানি সংকটে জেলেদের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বজলুর রহমান বাবলু বলেন, নিয়মিত ডিজেল না পাওয়ায় সাগরে মাছ ধরার ট্রলার চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অবৈধ ভাবে ডিজেলের অতিরিক্ত দাম নিচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে পাম্পে ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না, যা কৃত্রিম সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। জেলেদের একটি বড় অংশ সাগরে যেতে না পেরে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। মৎস্য উৎপাদন ও ইলিশ সংরক্ষণে প্রভাব পড়ছে, যা সামগ্রিক মৎস্য শিল্পকে ঝুঁকিতে ফেলছে।

এ সময় তিনি বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির পক্ষ থেকে দ্রুত সংকট সমাধানের উপায় তুলে ধরে বলেন, জ্বালানি সংকট দ্রুত সমাধান এবং জেলেদের স্বস্তি ফেরাতে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো নেওয়া যেতে পারে-
১. বিশেষ কোটা ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরবরাহ: মাছ ধরার ট্রলারগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডিজেল সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে। উপজেলা বা জেলা মৎস্য কার্যালয় থেকে তালিকা করে সরাসরি পাম্প থেকে জ্বালানি নিশ্চিত করা যেতে পারে।
২. তদারকি ও সিন্ডিকেট দমন: জ্বালানি পাম্পগুলোতে মনিটরিং জোরদার করতে হবে যাতে কেউ তেল মজুদ বা কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে। নির্ধারিত মূল্যে তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নজরদারি প্রয়োজন।
৩. ভর্তুকি প্রদান: ডিজেলের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে ট্রলার মালিকরা বিপাকে পড়েছেন। সরকার থেকে বিশেষ ভর্তুকি বা ন্যায্যমূল্যে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হলে জেলেরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন।
৪. বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার: ছোট ট্রলার বা নৌকার জন্য সোলার প্যানেল বা ব্যাটারি চালিত ইঞ্জিন ব্যবহারে উৎসাহিত করা যেতে পারে।
৫. পেশাগত তালিকা হালনাগাদ: প্রকৃত জেলেদের কাছে যাতে জ্বালানি সুবিধা পৌঁছায়, সেজন্য কার্ডধারী জেলেদের তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করা।

বজলুর রহমান বাবলু বলেন, উপকূলীয় অর্থনীতি এবং প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে মাছ ধরার ট্রলারগুলোর জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন, মুক্তার হোসেন, আক্তার হোসেন, হামিদ সরকার, ইব্রাহীম খলিল, মিজান ফকির, রকিব উদ্দিন নয়ন, সেলিম বেপারী, মোঃ ইলিয়াস প্রমুখ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *