তেহরানে শহীদদের শেষ বিদায়ে জনসমুদ্র

Reporter Name / ১৮৩ Time View
Update Time : শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ০২:১৮ পূর্বাহ্ন

ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলো একতা

তেহরানের আকাশভরা বিষণ্নতা আর রাস্তাজুড়ে মানুষের নীরব ক্রন্দন—শনিবার (২৮ জুন) যেন গোটা শহরটাই পরিণত হয়েছিল এক বিশাল শোকসমুদ্র। সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারানো শহীদদের জানাজায় অংশ নিতে হাজারো মানুষ ভিড় জমায় রাজধানীর ইঙ্গেলাব স্কয়ার ও তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে।

জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কফিন যখন একে একে এগিয়ে চলছিল, তখন মানুষের চোখ ভেজা অশ্রুজলে, কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছিল—‘আল্লাহু আকবর’ এবং ‘শহীদরা অমর’। শুধু শোক নয়, সেই স্লোগানগুলোয় ছিল প্রতিরোধের অঙ্গীকার, ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরানের জাতীয় ঐক্যের ঘোষণা।

এই শহীদদের কেউ ছিলেন সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কেউ বা নিরীহ বেসামরিক নাগরিক। তাদের প্রাণহানি এখন শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতির গল্প নয়, বরং জাতীয় আত্মত্যাগের প্রতীক হয়ে উঠেছে। জনগণের অনুভব—এই রক্তপাত বৃথা যাবে না, বরং তা নতুন শক্তি যোগাবে প্রতিরোধের।

জানাজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে শহীদদের মরদেহ পাঠানো হয় তাদের নিজ নিজ এলাকায়, যেখানে আবারো লাখো মানুষ অপেক্ষায় ছিল শেষ বিদায়ের জন্য।

ইরানের শীর্ষ নেতারা এরই মধ্যে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন—এই ঘটনার পেছনে যারা আছে, তাদের জবাব দেওয়া হবে কঠোরভাবে।

উত্তপ্ত পটভূমি: ১২ দিনের যুদ্ধ, পাল্টা প্রতিক্রিয়া

১৩ জুন ইসরায়েল ইরানের সামরিক, পারমাণবিক এবং আবাসিক স্থাপনায় সরাসরি হামলা চালায়। টানা ১২ দিনের সেই আগ্রাসনের জবাবে তেহরানও চুপ ছিল না। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ থ্রি’ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইরান চালায় পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা—যা ইসরায়েলি ভূখণ্ডে চরম ক্ষয়ক্ষতি ডেকে আনে।

ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় ইসরায়েলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নগ্নভাবে প্রকাশিত হয় এবং অর্থনীতিতেও পড়ে বড় ধাক্কা।

পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় ২২ জুন, যখন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুক্ত হয়ে ইরানের নাতানজ, ফোরদো ও ইসফাহান পারমাণবিক কেন্দ্রে বিমান হামলা চালায়। এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের টানাপোড়েন পায় নতুন মোড়।

শেষ পর্যন্ত, ২৪ জুন যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে দুই পক্ষ রাজি হয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিরতি হতে পারে অস্থায়ী। কারণ, দ্বন্দ্বের শিকড় এতটাই গভীরে, যা যে কোনো মুহূর্তে আবারও ছড়িয়ে পড়তে পারে আগুন হয়ে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *