নির্যাতনের সংস্কৃতি বন্ধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ অন্তর্বর্তী সরকার: ড. মুহাম্মদ ইউনূস

Reporter Name / ১৮৪ Time View
Update Time : শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ০১:৪৩ পূর্বাহ্ন

ঢাকা, ২৫ জুন ২০২৫:
বাংলাদেশে পূর্ববর্তী স্বৈরশাসনামলে চলমান নির্যাতনের সংস্কৃতি বন্ধে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

আজ (বুধবার) জাতিসংঘ ঘোষিত ‘নির্যাতিতদের সহমর্মিতা দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, “আমাদের সরকার নির্যাতন, গুম, বিচার বহির্ভূত হত্যার মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের চর্চা বন্ধে সুস্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে।”

‘নির্যাতন ছিল রাজনৈতিক দমন-পীড়নের অস্ত্র’

বাণীতে ড. ইউনূস বলেন, “শেখ হাসিনার শাসনামলে ভিন্নমতাবলম্বী ও রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন করতে নির্যাতনকে একটি রাষ্ট্রীয় কৌশলে পরিণত করা হয়েছিল। আইনকে ব্যবহারের বদলে অপব্যবহার করে মানুষকে হয়রানি করা হয়েছে।”

তিনি মন্তব্য করেন, “এই ধারা শুধু রাজনৈতিক ক্ষেত্রকে নয়, পুরো সমাজ ব্যবস্থাকে বিষাক্ত করে তুলেছে। মানবাধিকারের লঙ্ঘন কোনো ন্যায়ভিত্তিক সমাজে স্থান পেতে পারে না।”

তিনটি অঙ্গীকার: বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন

প্রধান উপদেষ্টা জানান, বর্তমান সরকারের তিনটি প্রধান ম্যান্ডেট—

  1. নির্যাতনে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা
  2. রাষ্ট্রীয় কাঠামোগত সংস্কার
  3. একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন

তিনি বলেন, “নির্যাতনের ধারার অবসানে আমরা জবাবদিহিতা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে রাষ্ট্র নির্মাণের কাজ করছি।”

গুম প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক সনদে স্বাক্ষর

ড. ইউনূস বলেন, “আমরা গুম প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক সনদে স্বাক্ষর করেছি, যা আমাদের মানবাধিকার রক্ষার অঙ্গীকারের অন্যতম মাইলফলক। এ সনদের আলোকে জাতীয় আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

তিনি আরও জানান, ‘গুম তদন্ত কমিশন’ গঠন করা হয়েছে, যার কাজ হলো—

  • অতীতের গুম ও নির্যাতনের অভিযোগ তদন্ত
  • দায়ীদের শনাক্তকরণ
  • ক্ষতিপূরণের সুপারিশ প্রদান

পুলিশ ও বিচার বিভাগে সংস্কার শুরু

প্রধান উপদেষ্টা জানান, পুলিশ, কারা প্রশাসন ও বিচার বিভাগে ব্যাপক সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে:

  • হেফাজতে নেওয়া ও জিজ্ঞাসাবাদে বিচার বিভাগীয় তদারকি
  • বাধ্যতামূলক নথিভুক্তকরণ
  • মানবাধিকার সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ

তিনি বলেন, “এসব পদক্ষেপ এখনই বড় ধরনের পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করছে।”

ভবিষ্যৎ লক্ষ্য: আস্থা পুনরুদ্ধারবাণীর শেষাংশে ড. ইউনূস বলেন, “আমরা নির্যাতনের অবসান ঘটিয়ে জনগণের মধ্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনতে চাই। এই দিবস হোক বাংলাদেশের জন্য একটি মোড় পরিবর্তনের দিন।”

প্রয়োজনে এই রিপোর্টটি প্রেস ব্রিফ, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, বা ভিডিও স্ক্রিপ্টে রূপান্তর করেও দিতে পারি। জানাতে পারেন কোন রকম ব্যবহার উপযোগী দরকার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *