জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশে ইতিহাস ও রাজনীতি এতটাই দলনির্ভর হয়ে পড়েছে যে, ক্ষমতাসীন ব্যক্তিত্ব বা দলের সমালোচনা করলেই মানুষ নানা অপবাদে অভিযুক্ত হন।
শনিবার (২১ জুন) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাস একসময় এক ব্যক্তি ও এক দলকেন্দ্রিক ছিল। শেখ মুজিবুর রহমানের নামের বাইরে ইতিহাস বলতে কিছু ছিল না। কেউ তাঁর কোনো সীমাবদ্ধতা তুলে ধরলে বা প্রশ্ন তুললে সাথে সাথেই তাকে জামায়াত, শিবির, রাজাকার, সরকারবিরোধী বা দেশবিরোধী বলে ট্যাগ দিয়ে দেওয়া হতো।”
সারজিস আলম আরও লিখেছেন, “আওয়ামী লীগ বা সরকারের সমালোচনা মাঝেমধ্যে করা গেলেও শেখ হাসিনাকে নিয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য করা রীতিমতো ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করার মতো। কেউ বললেই ফেরেশতা—এই ভাবমূর্তির বাইরে কোনো কথার সাহস দেখালে ট্যাগ তো আছেই, এমনকি গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঝুঁকিও থেকে যায়।”
তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে একটি জোরালো প্রশ্ন—কখন আসবে সেই সময়, যখন ইতিহাসকে নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে বিশ্লেষণ করা যাবে?
তিনি বলেন, “একসময় মনে হতো, বাংলাদেশের ইতিহাস (বিশেষত ১৯৪৭ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত) কেউ নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরবে না। এখন সুযোগ আছে। আমরা চাই, যে কোনো মতাদর্শ বা অবস্থানের হোক না কেন—যারা ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন, তাদের সবার অবদান স্বীকৃতি পাক। তাদের ভালো দিক যেমন প্রশংসিত হবে, তেমনি সীমাবদ্ধতাগুলো নিয়েও খোলামেলা আলোচনা হোক।”
সারজিস আলম ইতিহাস গবেষকদের উদ্দেশে বলেন, “যারা ইতিহাস নিয়ে কাজ করছেন, তারা যেন ১৯৪৭ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত সময়কালকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেন। নিরপেক্ষ জায়গা থেকে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। এরপর জনগণ নিজেরাই বেছে নেবে কোনটা গ্রহণ করবে, কোনটা করবে না।”
তাঁর মতে, “হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা ভাসানী, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, শেখ মুজিব, তাজউদ্দীন আহমেদ, জিয়াউর রহমান—যারা এই দেশের ইতিহাস গড়েছেন, তাদের অবদানকে স্বীকার করতে হবে। পাশাপাশি তাঁদের ভুলগুলোও সামনে আনতে হবে, যেন আমরা ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষা নিতে পারি।”
সবশেষে সারজিস আলম বলেন, “কাউকে দেবতা বানানোর প্রয়োজন নেই, আবার কাউকে বাতিল করাও ঠিক নয়। ইতিহাসকে ইতিহাসের মতো চলতে দিতে হবে—স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং বিশ্লেষণভিত্তিক।”
