জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বিদ্যুৎ খাতে ক্যাপাসিটি চার্জ, সিস্টেম লস, রেন্টাল ও কুইক রেন্টালের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট হচ্ছে। সেগুলো বন্ধ না করে আবার বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। রেন্টাল ও কুইক রেন্টালের নামে অর্থ দলীয় লোকদের পকেটে যায়। এর মাধ্যমে আবার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে প্রান্তিক মানুষের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিদ্যুতের লুটপাটের দায় জনগণের ওপর চাপানো যাবে না। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে গণবিরোধী উল্লেখও করেন তিনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম দফায় দফায় বাড়ানোর প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সমালোচনা করে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, চলতি বছরই সরকারের বিদ্যুৎমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছিলেন আগামী দুই বছরের মধ্যে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হবে না। কিন্তু মাত্র তিন মাস পার হতে না হতেই সিলিন্ডার গ্যাসের দাম ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা বাড়ানো হলো এবং বিদ্যুতের দামও প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হলো।
আসন্ন ৭ জুনের সংসদ অধিবেশন ও বাজেট পেশের প্রসঙ্গ টেনে গোলাম পরওয়ার বলেন, আইএমএফের শর্ত বা বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সংসদে আলোচনা না করে, সংসদের আগেই গত বুধবার হঠাৎ বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এটি জাতীয় সংসদ ও জনগণের রায়কে অবমাননা করার শামিল।
জামায়াত নেতা বলেন, অবিলম্বে বিদ্যুতের এই বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করুন এবং জনগণের জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে দিন। তা না হলে অতীতে জুলুম-অত্যাচারের পরিণতি কী হয়েছে, তা পেছনের দিকে তাকালেই দেখতে পাবেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা ওয়াদা করেছেন সরকারের সব ভালো কাজে আমরা সাহায্য করব এবং গঠনমূলক দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করব। কিন্তু জনস্বার্থবিরোধী কোনো অন্যায় কাজ জামায়াতে ইসলামী মেনে নেবে না।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি বলেন, সরকার এক মাসে দুইবার তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে। এর আগে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করেছে। দফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বাড়াচ্ছে। দ্রব্যমূল্য ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
পরে বিক্ষোভ মিছিলটি পল্টন ও কাকরাইল মোড় ঘুরে শান্তিনগরে গিয়ে শেষ হয়। এদিন দেশব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করে জামায়াতে ইসলামী।