শীতে ঘন কুয়াশায় শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে ডাইভার্ট ফ্লাইট অন্য দেশে নয়, অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরেই অবতরণ করাতে চায় সিভিল এভিয়েশন। এজন্য বিমানবন্দরে উন্নীত করা হয়েছে রানওয়ের লাইটিং সিস্টেম। এছাড়া ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত থাকবে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দর। এতে যাত্রী ভোগান্তি কমবে বলে প্রত্যাশা এয়ারলাইনসগুলোর। তবে আবহাওয়ার পার্থক্য স্বল্প হওয়ায় শতভাগ ফ্লাইট অবতরণ কঠিন হবে বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক,
প্রতিবছর শীত মৌসুমে অন্যান্য দেশের মতো শাহজালাল বিমানবন্দরের আকাশ আচ্ছন্ন হয় ঘন কুয়াশায়। এতে দেশি-বিদেশি অনেক ফ্লাইট ডায়ভার্ট করতে হয় পাশ্ববর্তী দেশগুলোতে। এবার ভোগান্তির অবসান করতে চায় বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন।
তথ্য অনুযায়ী, বৈরি আবহাওয়ায় শাহজালাল বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ ওঠানামার জটিলতা নিরসনে ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম বা আইএলএস প্রযুক্তি ১ থেকে ২ এ উন্নীত করার কাজ শেষ। অপেক্ষা বিদেশি ফ্লাইটের মাধ্যমে পরীক্ষার। পাশাপাশি শাহজালাল থেকে ডায়ভার্ট ফ্লাইট প্রথমবারের মতো নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ওসমানী ও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মঞ্জুর কবীর ভূঁইয়া বলেন, অতীতে শীতকালীন ঘনকুয়াশার কারণে বিমান ঢাকায় অবতরণ করতে না পারলে তা অন্য দেশের বিমানবন্দরে নিয়ে যেতে হতো। তবে এবার বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সপ্তাহে চারদিন ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে। বাকি তিনদিন সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর একইভাবে চালু থাকবে। ফলে বিকল্প হিসেবে এই দুটি বিমানবন্দরে ফ্লাইট ল্যান্ডিং করানো যাবে।
স্বাভাবিকভাবেই অন্য দেশে অনাকাঙ্ক্ষিত ফ্লাইট অবতরণ যোগ করে বাড়তি খরচ। নতুন ব্যবস্থাপনায় আস্থাশীল এয়ারলাইনসগুলো।
ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক মো. কামরুল ইসলাম বলেন, অন্য দেশের বিমানবন্দরে ফ্লাইট নামাতে যে খরচ হয় তার থেকে অনেক কম খরচে দেশিয় বিমানবন্দরে এই সুবিধা পাব।
এদিকে স্বল্প দূরত্বে অভ্যন্তরীণ অন্যান্য বিমানবন্দর ব্যবহার নিয়ে শঙ্কায় এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ নাফিজ ইমতিয়াজ উদ্দিন। তিনি বলেন, আবহাওয়ার অবস্থা সারা পৃথীবিতে যা হয় আমাদেরও তাই হয়। এটা মেনে নিতে হবে। আর এমন না যে, ঢাকায় কুয়াশা থাকলে চট্টগ্রাম বা সিলেটে থাকবে না। সেখানে আরও বেশি থাকবে। কারণ দূরত্ব খুব কম। এতো ছোট মাইলেজের মধ্যে আবহাওয়ার পার্থক্য থাকে না।
প্রায় ৪৪ বছর পর আইএলএস ক্যাটাগরি-২ এ উন্নীত হচ্ছে শাহজালাল বিমানবন্দর। যদিও খারাপ আবহাওয়ায় অবতরণযোগ্য দৃষ্টিসীমা নিশ্চিতে উন্নত দেশগুলো ইতোমধ্যে ব্যবহার করছে আইএলএস-৩ প্রযুক্তি।